• রবিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে মুনিয়ার আত্মহত্যায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে মামলা

দৈনিক আমাদের সংগ্রাম | পত্রিকা..... / ১১৬ জন পড়েছে
প্রকাশিত সময়: মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

এস এম আনিছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার দেয়ার মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত তরুণীর বড় বোন নুসরাত জাহান।

 

মামলায় ওই তরুণীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য গতকাল সোমবার রাতে গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান। নিহতের বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘির পাড়। গুলশানের সেই ফ্ল্যাটে একাই থাকতে মুনিয়া। মুনিয়া মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

নিহত তরুণীর স্বজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মুনিয়া তার বড় বোনকে ফোন করে জানান ঝামেলায় পড়েছেন। এ কথা শুনে তার বোন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে সন্ধ্যা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও তার বোন দরজা খুলছিলেন না। এরপর পুলিশকে খবর দিলে রাতে বাইরে থেকে দরজার তালা খুলে মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের গুলশান জোনের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা ভবনটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, মুনিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ ডিজিটাল ডিভাইসগুলো জব্দ করা হয়েছে। এগুলো যাচাই করে তারপর সব বলা যাবে।

 

এদিকে বাদী তার মামলার এজহারে উল্লেখ করেন ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি সায়েম সোবহান আনভীর রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে তার (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। আসামি আনভীর প্রায়ই সেই বাসায় আসা যাওয়া করতেন বলেও এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করতে গিয়ে বাদী এজহারে উল্লেখ করেন, গত ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। মোসারাত বলেছেন, আনভীর তাকে ধমক দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ‌পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তাঁর মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন।

 

ছবি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাত) মেরে ফেলবেন।

 

বাদী নুসরাত উল্লেখ করেন, এই ঘটনার দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাঁকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। এসময় নিহত মোসারাত দ্রুত তার পরিবারকে ঢাকা আসার জন্য আহ্বান করেন।

 

পুলিশের দাবি, ২৬ এপ্রিল আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্ররোচনায় আত্মহত্যা করেন মোসারাত জাহান মুনিয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
❌ নিউজ কপি করা নিষিদ্ধ ❌